August 25, 2026, 12:08 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
সারের বরাদ্দ আছে, সংকট কোথায়? দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার, কিন্তু কৃষকের হাতে যাচ্ছে না কুষ্টিয়ায় ফিরল দেবাশীষ ও স্ত্রী-সন্তানের নিথর দেহ, রাতেই স্ব স্ব ধর্মীয় রীতিতে শেষ বিদায় সরকারি বিজ্ঞাপনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিএফপির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি রবীন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নতুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বরের মৃত্যু সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেবাশীষের অচেনা মৃত্যু এবং আমার অস্থির অন্তর

সারের বরাদ্দ আছে, সংকট কোথায়?

ড. আমানুর আমান

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় আমন মৌসুমে সারের চাহিদার বিপরীতে সরকারি বরাদ্দের হিসাব দেখলে বড় ধরনের ঘাটতির চিত্র পাওয়া যায় না। বরং কয়েকটি জেলায় নির্ধারিত চাহিদার পুরো পরিমাণই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাঠের চিত্র সেই হিসাবের সঙ্গে মিলছে না। কৃষকেরা সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন, কেউ কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনছেন, আবার কোথাও নির্দিষ্ট ধরনের সারের সরবরাহ কম থাকার কথা বলা হচ্ছে।
এই বৈপরীত্যই বর্তমান সার ব্যবস্থাপনার মূল প্রশ্ন তৈরি করছে। যদি সরকারি হিসাবে চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে কৃষকের কাছে গিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে কোথায়?
প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, সার ব্যবস্থাপনায় ‘বরাদ্দ’ এবং ‘প্রাপ্যতা’ এক বিষয় নয়। কোনো জেলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মানেই সেই সার কৃষকের জমিতে পৌঁছেছে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরাদ্দের পর আরও কয়েকটি ধাপ রয়েছে। আমদানিকারক বা সরকারি সংস্থা থেকে সার আসে, তা ডিলারের কাছে যায়, ডিলার তা সংরক্ষণ করেন, এরপর খুচরা বিক্রেতা বা সাব-ডিলারের মাধ্যমে কৃষকের কাছে পৌঁছায়। প্রতিটি ধাপেই সরবরাহ, মজুত, মূল্য ও বিক্রির হিসাবের মধ্যে সামান্য বিচ্যুতি তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত কৃষকের কাছে তার প্রভাব পড়তে পারে।
সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল ‘সারসংকট’ হিসেবে দেখলে সমস্যার প্রকৃত চরিত্র ধরা পড়বে না। বরং এটি হতে পারে সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও বিতরণব্যবস্থার একটি সংকট।
বরাদ্দের হিসাব কি যথেষ্ট/
সরকারি পর্যায়ে সাধারণত সারের চাহিদা নির্ধারণ ও বরাদ্দের হিসাব করা হয় উপজেলা, জেলা ও কৃষি মৌসুমভিত্তিক প্রয়োজন বিবেচনায়। কিন্তু কৃষির বাস্তবতা স্থির নয়। কোনো এলাকায় আবাদ বাড়তে পারে, একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ হতে পারে, কোনো নির্দিষ্ট সারের ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। ফলে মৌসুমের শুরুতে করা চাহিদার হিসাব কয়েক সপ্তাহ পরেই পরিবর্তিত হতে পারে।
চলতি আমন মৌসুমে কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় আবাদ বেড়েছে। একইভাবে মেহেরপুরের মতো এলাকায় নিবিড় চাষাবাদের কারণে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন হয়। ফলে কাগজে যে চাহিদা দেখানো হয়েছে, মাঠের প্রকৃত চাহিদা তার চেয়ে বেশি কি না, সেটিও যাচাইয়ের বিষয়।
এখানে আরেকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বরাদ্দের পরিমাণ যদি আগের বছরের চাহিদা বা নির্দিষ্ট ফর্মুলার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, কিন্তু বর্তমান মৌসুমে আবাদ ও ফসলের ধরন পরিবর্তিত হয়, তাহলে সরকারি বরাদ্দ ও কৃষকের প্রকৃত প্রয়োজনের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
তবে শুধু চাহিদা বৃদ্ধির ব্যাখ্যা দিয়ে সব অভিযোগের উত্তরও পাওয়া যায় না। কারণ কৃষকের অভিযোগ শুধু সার কম পাওয়ার নয়; অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে সার কেনার অভিযোগও রয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহ কম হওয়ার পাশাপাশি বাজারে সারের প্রবাহ ও মূল্য নির্ধারণের বিষয়টিও সামনে আসছে।
সংকট কি সরবরাহে, নাকি বিতরণে/
বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান হওয়া উচিত—সরকারি বরাদ্দের পর সার কোথায় যাচ্ছে।
ধরা যাক, একটি জেলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হলো। প্রথম প্রশ্ন হবে, বরাদ্দের পুরো পরিমাণ কি সংশ্লিষ্ট ডিলাররা উত্তোলন করেছেন? উত্তোলন না করলে কেন করেননি? উত্তোলন করলে সেটি কোথায় গেছে? ডিলারের গুদামে কতদিন ছিল? কতটা খুচরা বিক্রেতার কাছে গেছে? কতটা কৃষকের কাছে বিক্রি হয়েছে?
এরপর আসবে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—নির্ধারিত দামে কতটা বিক্রি হয়েছে?
কারণ কৃষকের হাতে সার পৌঁছানোর শেষ ধাপটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি গুদাম বা ডিলারের গুদামে সার মজুত থাকলেও কৃষক যদি তা নির্ধারিত দামে না পান, তাহলে সরকারি বরাদ্দের উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।
এ কারণে শুধু জেলা পর্যায়ের বরাদ্দের হিসাব প্রকাশ করলে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন ডিস্ট্রিবিউশন ট্র্যাকিং—অর্থাৎ বরাদ্দের প্রতিটি ইউনিটের গতিপথ অনুসরণ করা।
দামের পার্থক্য কেন তৈরি হচ্ছে/
কৃষকদের অভিযোগের সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ হলো নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কেনার বিষয়টি। এখানে দুটি সম্ভাবনা থাকতে পারে।
প্রথমত, প্রকৃত পরিবহন, ঋণ, বাকিতে বিক্রি বা অন্যান্য খরচের কারণে সরবরাহব্যবস্থার কোনো পর্যায়ে বাড়তি ব্যয় তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সংকট বা কৃত্রিম সংকটকে ব্যবহার করে কোনো পক্ষ অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারে।
দুটি বিষয়কে এক করে দেখা যাবে না। বাড়তি দামের অভিযোগ পাওয়া মানেই যে অনিয়ম হয়েছে, তা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আবার ডিলার বা খুচরা বিক্রেতার বক্তব্য শুনেই বিষয়টি স্বাভাবিক ধরে নেওয়াও ঠিক হবে না।
প্রকৃত চিত্র জানতে হলে একই পণ্যের সরকারি নির্ধারিত মূল্য, ডিলারের ক্রয়মূল্য, পরিবহন ব্যয়, খুচরা পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য এবং কৃষকের প্রকৃত ক্রয়মূল্য পাশাপাশি বসাতে হবে। তখনই বোঝা যাবে কোন পর্যায়ে মূল্য বাড়ছে এবং সেই বাড়তি মূল্য যৌক্তিক কি না।
ডিলার ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ/
সার বিতরণব্যবস্থার কেন্দ্রীয় চরিত্র ডিলার। ফলে ডিলার নিয়োগ, ডিলারের সংখ্যা, তাদের এলাকার পরিধি এবং বরাদ্দের বণ্টনও পর্যালোচনা করা দরকার।
কোনো এলাকায় ডিলারের সংখ্যা বেশি হলেও যদি বাস্তবে অল্প কয়েকজনের হাতে সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে প্রতিযোগিতামূলক বিতরণব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে। একইভাবে একই ব্যক্তি একাধিক সংস্থার ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করছেন কি না, রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবের কারণে কোনো গোষ্ঠী সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করছে কি না—এসব অভিযোগও তথ্য-উপাত্ত দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
এখানে মূল বিষয় ব্যক্তিবিশেষকে দায়ী করা নয়। বরং এমন কোনো কাঠামোগত দুর্বলতা আছে কি না, যার কারণে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কৃষক বাজারে গিয়ে সার পাচ্ছেন না—সেটিই দেখা দরকার।
‘সার নেই’ এবং ‘সার পাওয়া যাচ্ছে না’—এক নয়/
বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি শব্দগত পার্থক্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ‘সার নেই’ এবং ‘কৃষক সার পাচ্ছেন না’—এই দুটি বক্তব্যের অর্থ এক নয়।
সার উৎপাদন বা আমদানি কমে গেলে প্রকৃত অর্থে সরবরাহ ঘাটতি হতে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত সার দেশে বা জেলায় প্রবেশের পরও যদি কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় কৃষক তা না পান, তাহলে সেটি বিতরণব্যবস্থার সমস্যা হতে পারে।
আবার কোনো নির্দিষ্ট ধরনের সার পর্যাপ্ত থাকলেও কৃষকের চাহিদা যদি অন্য ধরনের সারের দিকে বেশি হয়, তাহলে সামগ্রিক বরাদ্দ পর্যাপ্ত হলেও বাস্তবে সংকট দেখা দিতে পারে।
এ কারণে ‘সারসংকট’ নিয়ে আলোচনায় মোট বরাদ্দের পাশাপাশি সারের ধরনভিত্তিক চাহিদা ও সরবরাহ বিশ্লেষণ করা জরুরি। ইউরিয়া পর্যাপ্ত থাকলেও টিএসপির ঘাটতি থাকলে কৃষকের কাছে সেটিই সংকট হিসেবে ধরা পড়বে।
বাজারে আমদানিকৃত সারের ভূমিকা/
যশোরের নওয়াপাড়ার মতো বড় বাণিজ্যকেন্দ্রের বাজার পরিস্থিতি আরও একটি প্রশ্ন সামনে আনে। আমদানিকৃত বিভিন্ন দেশের সারের দামে যখন পার্থক্য থাকে এবং কৃষকের কোনো নির্দিষ্ট উৎসের সার বেশি পছন্দ হয়, তখন বাজারে চাহিদা ও দামের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
এখানে নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ভর্তুকি দিয়ে সার আমদানি বা সরবরাহ করলেও বাজারে যদি পণ্যটি একাধিক স্তর অতিক্রম করে এবং প্রতিটি স্তরে মূল্য সংযোজনের সুযোগ থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত কৃষকের ক্রয়মূল্য বেড়ে যেতে পারে।
ফলে আমদানিকারক পর্যায় থেকে কৃষকের কাছে বিক্রি পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সারের মূল্য কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রয়োজন। বিশেষ করে একই ধরনের সারের সরকারি সরবরাহ ও বেসরকারি আমদানির ক্ষেত্রে দামের পার্থক্য থাকলে তার কারণও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
কৃষকের প্রকৃত ক্ষতি শুধু বাড়তি দাম নয়/
সার সময়মতো না পাওয়া কৃষকের জন্য শুধু অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের বিষয় নয়। আমন ধানের মতো মৌসুমি ফসলে নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগ করা না গেলে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কৃষককে যদি বারবার দোকানে যেতে হয়, দিনের শ্রম নষ্ট হয়, পরিবহন খরচ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বেশি দামে সার কিনতে হয়, তাহলে উৎপাদন ব্যয় কয়েকটি স্তরে বেড়ে যায়।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, কৃষক বাজারে দর-কষাকষির ক্ষেত্রে দুর্বল অবস্থানে থাকেন। ফসলের বাজারদর তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না; একইভাবে কৃষি উপকরণের বাজারদরও তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে সার পাওয়ার জন্য যদি তাকে বাড়তি দাম দিতে হয়, সেই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত তার মুনাফা কমিয়ে দেয়।
এ কারণে সারের মূল্য ও সরবরাহের প্রশ্নটি কৃষি উৎপাদনের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গেও যুক্ত।
এখন প্রয়োজন তথ্যের তিনটি স্তর মিলিয়ে দেখা/
বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র বের করতে হলে তিন ধরনের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
প্রথমটি হলো সরকারি বরাদ্দের তথ্য—কোন জেলায় কত চাহিদা, কত বরাদ্দ এবং কখন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়টি হলো সরবরাহ ও উত্তোলনের তথ্য—ডিলার কত সার পেয়েছেন, কতটা উত্তোলন করেছেন এবং কোথায় মজুত করেছেন।
তৃতীয়টি হলো বিক্রির তথ্য—কতটা সার কৃষকের কাছে বিক্রি হয়েছে এবং কী দামে বিক্রি হয়েছে।
এই তিনটি তথ্য মিলিয়ে দেখা গেলে কাগজে থাকা বরাদ্দ এবং মাঠে কৃষকের অভিজ্ঞতার মধ্যকার ব্যবধানটি কোথায় তৈরি হচ্ছে, তা অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত দায় কার/
এই প্রশ্নের উত্তর এখনই নির্দিষ্ট করে দেওয়া সম্ভব নয়। কৃষকের অভিযোগ যেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন, তেমনি ডিলার ও প্রশাসনের বক্তব্যও যাচাই করা দরকার। কারণ একটি সরবরাহব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য সবসময় একটি পক্ষকে দায়ী করা যায় না।
কখনো চাহিদা নির্ধারণে ভুল হতে পারে, কখনো সরবরাহে বিলম্ব হতে পারে, কখনো বিতরণব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকতে পারে, আবার কখনো বাজারের কোনো পক্ষ সুযোগ নিতে পারে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বরাদ্দের পরিমাণ দিয়ে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর সাফল্য মাপা যাবে না।
সরকারি নথিতে যদি পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকে, অথচ কৃষককে নির্ধারিত দামে সার পেতে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়, তাহলে ব্যবস্থাপনার কোথাও না কোথাও একটি ফাঁক রয়েছে। সেই ফাঁকটি চাহিদা নির্ধারণে, বরাদ্দে, উত্তোলনে, মজুতে, পরিবহনে, ডিলার ব্যবস্থাপনায়, খুচরা বিক্রিতে নাকি বাজার নিয়ন্ত্রণে—তা নির্ধারণ করাই এখন মূল কাজ।
সারের এই পরিস্থিতিকে তাই কেবল মৌসুমি সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ কম। এটি কৃষি উপকরণ বিতরণব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বাজার ব্যবস্থাপনার একটি বড় পরীক্ষা। কৃষক যেন সরকারি দামের সার পেতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ না দেন এবং বরাদ্দের সার যেন নির্ধারিত পথেই কৃষকের হাতে পৌঁছায়—এটাই হওয়া উচিত ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য।
কারণ শেষ পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দপত্রে কত টন সার লেখা আছে, সেটি কৃষকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নয়। কৃষকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তার জমিতে প্রয়োজনের সময়, প্রয়োজনীয় সারটি, নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে কি না। সেই প্রশ্নের উত্তরই বর্তমান সার ব্যবস্থাপনার প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net